ছেলের খুনিকে জড়িয়ে ধরে সবাইকে কাঁদালেন আদালতে একজন বাবা

তৈরি হচ্ছেন বিচারক রায় দেওয়ার জন্য। মৃত্যুদণ্ডই বা যাবজ্জীবন দেওয়া হবে জানেন সবাই । থমথম করছে আদালত কক্ষ।
সাক্ষীর স্ট্যান্ড দাঁড়িয়ে বিচারকের দিকে তাকিয়ে জোরে বলে উঠলেন “৬৬ বছরের আবদুল-মুনিম অল্প বয়সের ছেলে ওকে ক্ষমা করে দিলাম। ইসলাম ধর্ম ক্ষমার কথাই বলে।’’জিতমউদের কাছে ক্ষমা চাইল অভিযুক্ত।আসামির স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো ট্রে আলেকজান্ডার রেলফোর্ডকে জিতমউদকে জড়িয়ে ধরলেন।

সার্কিট জজ কিমবার্লি বানেলেরও চোখের পাতা ভিজে উঠল সাথে সাথে আদালত কিছুক্ষন এর জন্য মুলতুবি ঘোষণা করে তাঁর নিজের ঘরে চলে গেলেন বিচারক বানেল।

গোটা আদালত কক্ষে যেন স্তব্ধ হয়ে উঠলো ! জিতমউদের ছেলে সালাউদ্দিনকেই পিৎজা খেতে গিয়ে আড়াই বছর আগে খুন করার অভিযোগ রয়েছে ২৪ বছর বয়সী অভিযুক্ত রেলফোর্ডের বিরুদ্ধে। এছাড়াও আছে পদোকানে ডাকাতি, তথ্যপ্রমাণ বানচালের এর অভিযোগ।

প্রমাণিতও হয়েছে আদালতে তদন্ত সাপেক্ষে । এর পরেও ছেলে হারানো বাবা কিভাবে ক্ষমা করে দিলেন জিতমউদ! হাজির সবাই মুখ চাওয়াচায়ি করতে থাকলেন।

বিস্ময়ের আরও কিছু বাকি ছিল ওই কক্ষে সবার জন্য । শুধু থামালেন না বিচারককে , রেলফোর্ডকে ক্ষমা করে সাক্ষীর স্ট্যান্ড যেয়ে শুধু তাকে জড়িয়ে ধরেই থাকলেন না জিতমউদ, কেঁদে কেঁদে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন , ‘‘কোনও চিন্তা কোর না। ইসলামকে স্মরণ করবে সব সময়।’’

রেলফোর্ডের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তাতে শাস্তি হয় মৃত্যুদণ্ড অথবা ৩১ বছরের কারাদণ্ড। জিতমউদের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিলো ।

এর পর ও আবার সাক্ষী স্ট্যান্ড এর কাছে যেয়ে বললেন দেখতে দেখতে সময় কেটে যাবে এর পর এক নতুন জীবনের শুরু করে নিবেন ৭ বছর পর আপনার বয়স হবে ৩১ | ইসলাম এর পথ অনুসরণ করে এক নতুন জীবনের শুরু করবে সেটা তো এখন এই সময় থেকেই শুরু করতে পারো এই ৭ বছর যা তোমার নতুন জীবন আরো সুন্দর করে গড়ে তুলবে |

এই সময় আসামি রেলফোর্ড তার বুকের মধ্যে থেকেই কেঁদে দিলো এবং চোখ মুছতে লাগলো |

শুনে চোখে জল এসে গেল আসামী রেলফোর্ডের। জিতমউদ তখনও তাকে ধরে রয়েছেন বুকে। চোখের জল মুছতে লাগল রেলফোর্ড।
জিতমউদ তার পরিবার নিয়ে থাকেন থাইল্যান্ড এ আগে অবশ ছিলেন আমেরিকা তে, সেখানে বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রিনিসিপাল হিসাবে কাজ করছেন তিনি |

একটা পিৎজার দোকান ছিল জিতমউদের এর ছেলের | যেখানে তার ছেলে কে চুরি মেরে খুন করেছিল রাইলফোর্ড, তারপর করে দোকান লুটপাট |

সেখানে আদালতে ছিল আসামির মা সেও অবাক হয়ে যান বিষয় টি দেখে আর সবার চোখে দেখা যাই চোখের পানি, সে এক অদ্ভুত অবস্থা, না দেখলে নয় |