স্মার্ট ফোন কতটা ক্ষতি করছে আমাদেরকে

বর্তমান সময়ে একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না এমন কাউকে খুজে পাওয়া মুশকিল। পুরো বিশ্বই যখন সেলফি জ্বরে আক্রান্ত তখন সেলফি তোলার জন্য হলেও অনেকে একটি স্মার্টফোন ক্রয় করে থাকেন। বিজ্ঞানের উত্তোরত্তর উন্নতির ফলে মোবাইল ফোনের বিকশিত হয়ে আজ স্মার্টফোন হয়ে মানুষের হাতে হাতে। কিন্তু আমাদের দেশে চায়না স্মার্টগুলোর সহজলভ্যতার কারণে অপরিণত বয়সের শিশু কিশোরদের হাতের নাগালে চলে এসেছে তাছাড়া স্মার্টফোনের বিভিন্ন অপব্যবহারের ফলে এটি আমাদের জন্য আর্শিবাদ না হয়ে দাড়িয়েছে অভিশাপ হিসেবে। চলুন দেখে নিই কোন কোন কারণে স্মার্টফোন আজ মানবসভ্যতার জন্য হুমকী হয়ে দাড়িয়েছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের সাথে সাথে আপনার মনে ফোনটি হারানের এক ধরনের ভয় জন্মে যাকে গবেষকরা “নোমোফোবিয়া” বা “নো মোবাইল ফোন ফোবিয়া” নামে আখ্যায়িত করেছেন। গবেষনায় দেখা দেখে যে যুক্তরাজ্যের ৫৩ শতাংশ এবং ২৯ শতাংশ এশীয় তরুনরা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া স্মার্ট ফোনের অতিরিক্ত চ্যাটিং, টেক্সট ম্যাসেজ পাঠানোর ফলে অনেকে “স্লিপ টেক্সটিং” বা ঘুমের মর্ধে বার্তা পাঠানোর মত এক ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে বর্তমানে পৃথিবীতে এমন কিছু রোগের উৎপত্তি হয়েছে যার অস্তিত্বও পূর্বে ছিল না। এছাড়া চোখে কম দেখা, কানে কম শোনা এসব তো রয়েছেই।

স্মার্টফোনে চ্যাটিং এর ফলে মানুষের অনুভুতি প্রকাশের ক্ষমতা প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে। কিছু দিন আগেও যেখানে মানুষ ভাষা ও এক্সপ্রেশনকে অনুভুতি প্রকাশের জন্য ব্যবহার করতো স্মার্টফোনে চ্যাটিং এর ফলে তা আজ শুধুই কিছু প্রতীক এ সীমবদ্ধ হয়ে গেছে। কোলনের পর প্রথম বন্ধনী দিলে আগে হাসিমুখের অভিব্যক্তি বোঝা যেত। মানে সে খুশি। এখনকার তরুণদের কাছে শুধু 🙂 এই চিহ্নের অর্থ মন খারাপ!’ Íতাহলে খুশি বোঝানোর চিহ্নটা কী? ‘কোলনের পর উ দিয়ে দেয়। এতে দাঁত বের করে হাসার একটা অভিব্যক্তি চলে আসে। মানে সে সত্যি খুশি।’ এসব প্রতীকি আবেগ প্রকাশে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার ফলে বাস্তবে অনুভুতি প্রকাশ করা যেন খুবই কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার।

অনলাইনে রয়েছে কাশ অফ কানস, ক্যান্ডি ক্রাশের মত নানা গেমস। এসব গেমস তরুণদের খুবই প্রিয়। অনেকেই নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে এসব নিয়ে পড়ে থাকে, যা অনেকটা নেশার মতোই কাজ করে মস্তিষ্কে। ২০১২ সালের এক গবেষণায় অনুরূপ প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে দেখা যায়, ইন্টারনেটে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা একটি নেশার মতোই। আর এ প্রবণতা মাদক ও অ্যালকোহলের নেশার চেয়েও বেশি।

পরিশেষে বলা যায় যে, বিজ্ঞানের কল্যানে যে স্মার্টফোন আজ আমাদের হাতে হাতে তার অপব্যাবহার না করে কিভাবে এর সদ্বব্যবহার করে সবার উপকারী একটি ডিভাইসে পরিণত করা যায় তার লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।