ধুমপান ছেড়ে দিলে যা যা ঘটবে আপনার শরীরে!

পৃথিবীতে আজ নীরব ঘাতক তামাকাজাত দ্রব্যের মধ্যে সিগারেট সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। সিগারেটে ২০০ রকমের ক্ষতিকারক পদার্থ রয়েছে যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী।

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ কথা কারো অজানা নয়। সিগারেট এবং তামাকজাত অন্যান্য দ্রব্য ধীরে ধীরে শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে নষ্ট করে দেয়। ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালী সরু হয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা, যৌন ক্ষমতা হ্রাসসহ নানা ক্ষতিকর দিক জানার পরেও অনেকে এটি ত্যাগ করতে পারেন না। অনেকে আবার সচেতন হয়ে বা পারিবারিক সহযোগীতায় এ মরন নেশা ত্যাগ করে দেন।

ধূমপান বন্ধ করার ঠিক পরপরই শরীরের বিভিন্ন স্থারে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটতে থাকে। একটি সিগারেটের ধোঁয়ায় দুশো’রও বেশি বিষাক্ত পদার্থ থাকে যা শরীরকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। তারপরেও ধুমপান ত্যাগ করলে ধীরে ধীরে আমাদের শরীর পুনরায় অধূমপায়ী জীবনের সেই শারীরিক অবস্থায় আবারও ফিরে আসে।

আপনি যদি এখনই এই নেশা ত্যাগ করেন তাহলে সর্বশেষ ধূমপানের মাত্র ২০ মিনিট পরেই আপনার শরীরের রক্তচাপ ও নাড়ির গতি আগের মত স্বাভাবিক হয়ে যাবে৷ এর কারণ হলো ধূমপানের সময় সিগারেটের নিকোটিন শরীরের নার্ভ সিস্টেমকে সক্রিয় রাখার ফলে যতটুকু বেড়ে গিয়েছিলো তা আবার আস্তে আস্তে কমে আসে৷

পরবর্তী ১২ ঘন্টার মধ্যে আপনি যদি ধুমপান না করেন তাহেল সিগারেটের জ্বলন্ত আগুন থেকে বের হওয়া যে বিষাক্ত গ্যাস আপনার শরীরে প্রবেশ করেছিলো, তার প্রভাব ক্রমেই নিষ্ক্রীয় হয়ে পড়বে। সাথে সাথে আপনার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে শুরু করবে এবং শরীরের আমেজ ফিরে আসবে।

পরবর্তী ০২ দিনের মধ্যে আপনার শরীরের ভেতরে জমে থাকা নিকোটিন ধ্বংস হয়ে যাবে ফলে আপনার খাবারের প্রতি চাহিদা ও রুচি দুটোই বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি পূর্বের তুলনায় অনেক স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিতে সক্ষম হবেন। এছাড়া স্বাদ ও গন্ধ নেওয়ার ক্রমেই বাড়তে থাকবে।

এক সপ্তাহ পর থেকেই আপনার শরীরে রক্ত চলাচর প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়ে আসবে ফলে মাথাব্যথা, বমিভাব, প্রচ- ক্ষুধা পাওয়া, হতাশা বা আতঙ্কভাব এধরনের সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি পাবেন এবং ধুমপান ত্যাগের সুফলগুলি বুঝতে পারবেন।

ধূমপান বাদ দেওয়ার কয়েকমাস পরেই আপনি অনুভব করতে পারবেন যে শরীরে রক্ত চলাচল অনেক ভালোভাবে হচ্ছে৷ আর আগের তুলনায় ফুসফুস শতকরা ৩০ ভাগ বেশি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে এবং কাশিভাবও কমতে শুরু করেছে৷

আপনা অনেকেই হয়তো জানি না যে, ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার এক বছর পর থেকেই হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেক কমে যায়৷ তাছাড়া দশ বছর ধূমপান না করলে একজন ধুমপায়ীর ফুসফুসের ক্যানসারে মারা যাওয়ার ঝুঁকির তুলনায় অর্ধেক কমে যায়৷ শুধু তাই নয়, ১৫ বছর ধূমপান থেকে বিরত থাকলে তার করোনারি হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।