যে কাজগুলি করলে ৫০ বছর বয়সেও অক্ষুন্ন থাকবে আপনার সৌন্দর্য আর যৌবন!

চুয়ান্ডো ট্যান। সিঙ্গাপুরের বাসিন্দা এই ইনস্টাগ্রাম মডেলের ছবি দেখে অবাক সবাই। কে বলবে ছবির এই মানুষটির বয়স ৫০ এরও বেশি। সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন নিজের যৌবন ধরে রাখার গোপন রহস্য। চুয়ান্ডো ট্যান বলেন “বয়সটা আসলে মনেরই। পরিমিত আহার এবং শরীরচর্চা করলে, যে কেউ তাঁর মতো পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সেও যৌবন ধরে রাখতে পারবেন।”

চলুন তাহলে জেনে নিই কীভাবে জীবনযাপন করলে বেশি বয়সেও তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব।

সুগার ফ্রি খাবার খান:


সুন্দর ফিগার পেতে বা সুস্থ্য থাকার জন্য সুগার ফ্রি খাবার খাওয়া খুবই প্রয়োজন। কিন্তু যতই সুগারকে গুডবাই বলি না কেন ইনিয়েবিনিয়ে আমাদের ডায়েট চার্টে ঠিকই জায়গা করে নেয় সুগারের বিকল্প কিছু খাবার। চিনি নয়। কিন্তু চিনির মতো মিষ্টি এক উপকরণ।

তবে ডাক্তাররা কিন্তু এই বিকল্পের খুব একটা পক্ষপাতি নন। তাঁদের মতে নকলের চেয়ে আসলটাই নাকি ঢের ভালো। কৃত্রিম উপায়ে খাবারকে মিষ্টি করাকে তাঁরা ভালো চোখে দেখেন না। সেই প্রক্রিয়ায় নাকি এমন কিছু উপাদান ব্যবহৃত হয়, যা কি না একাধিক শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এব্যাপারে বেশি কিছু সতর্কতা জারি করেছেন তাঁরা।

যথাযথ নিদ্রা গ্রহণঃ


কাজের চাপ তো থাকবেই। কিন্তু সারাদিনের প্রয়োজনীয় বিশ্রামটা যেন শরীর পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে! শরীরকে তরতাজা রাখার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের কোনও বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭-৮ টানা ঘুম খুব প্রয়োজন। চেষ্টা করতে হবে রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ার। এবং সকালে সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে পড়ার। এর ফলে দৈনন্দিন কাজের আগে অনেক সময় বের হবে এবং পরিমিত ঘুমানোর সুফলটাও দ্রুত পাওয়া যাবে।

নিয়মিত শরীরচর্চা করাঃ


সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প নেই। দিন দিন আমাদের রোগব্যাধি যেমন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার ইত্যাদির প্রকোপ বহু গুণে বেড়েছে। নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চা এগুলো প্রতিরোধ করে।

প্রতিদিন হাঁটলে, দৌড়ালে কিংবা শরীরচর্চা করলে রক্ত চাপ বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর ফলে রক্তনালিতে চর্বির পুরু আস্তর জমতে পারে না, ফলে হৃদরোগ হওয়ার ভয় কমে যায়। এছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে, হাড়ের ক্ষয় কম হয় এবং ক্যান্সার হওয়ার ভয় থাকে না।

শরীরচর্চা করলে মস্তিষ্ক থেকে নানা রকম রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এ সকল রাসায়নিক উপাদান চিত্ত প্রফুল্ল করে এবং শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি চেহারায় লাবণ্য ও ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়। ফলে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ অনেক বেড়ে যায়। দিনের টানটান উত্তেজনাময় কর্মকান্ডের পর আধঘণ্টা হাঁটা, জগিং করা কিংবা হাল্কা ব্যায়াম অনেক কাজে দেয়।

ফাস্টফুড খাবার অভ্যাস ত্যগ করাঃ


ফাস্ট ফুডের ক্ষতিকর দিকগুলো এখন আর কারও অজানা নয়। ওজন বাড়ানোসহ নানান রকম ক্ষতির কারণ হতে পারে এইসব খাবার। তারপরও পরিস্থিতির কারণেই হোক বা শখ করেই হোক, উদরপূর্তিতে চলছে বার্গার, পিৎজা বা স্যান্ডউইচ খাওয়া।

ফাস্ট ফুড সম্পর্কে ‘এস্থেটিক স্কিন লেজার’য়ের পুষ্টিবিদ তায়েবা সুলতানা বলেন “সাধারণত এ ধরনের খাবারে চর্বিযুক্ত মাংস, পরিশোধিত শস্যজাত খাবার যেমন- পাউরুটি এবং প্রচুর পরিমাণে চিনি ও লবণ ব্যবহার করা হয়।”

“ফাস্টফুড খাওয়ার কারণে স্থুলতা বা ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যা তো হয়েই থাকে। আর দেহের অতিরিক্তি ওজন উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ইনসমনিয়াসহ আরও অনেক রোগের সূত্রপাত হতে পারে।” বলেন সুলতানা।
তিনি আরও বলেন, “ফাস্টফুডে উচ্চমাত্রার স্যাচারেইটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি, লবণ ও উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল থাকে। তাই খাবার খাওয়ার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করে ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে।”

ব্যস্ততার মধ্যেও যতটুকু সম্ভব ফাস্টফুডজাতীয় খাবার এড়িয়ে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন এই পুষ্টিবিদ।

কোথায় বয়স?


মনে রাখা দরকার, শরীরের বয়সটা আসলে কিছু সংখ্যা ছাড়া কিছুই নয়। মনের বয়সই প্রকৃত বয়স! তাই শরীরের দিক থেকে তরুন হওয়ার আগে মনের দিক থেকে তরুণ থাকার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে অল্পবয়সিদের সঙ্গে মেলামেশা করার চেষ্টা করতে হবে। আপনি যদি মন থেকে তরুন না হয়ে থাকেন তবে শরীর থেকেও হতে পারবেন না।